December 15, 2013

এতটা স্বার্থপর হবে কখনো ভাবি নি,

এতটা স্বার্থপর হবে কখনো ভাবি নি,
ভাবি নি আমার জন্য তোমার
অনুভূতিগুলো শুণ্য হয়ে যাবে ....
মানুষ কখনো অনুভূতিহীন
হতে পারে না ।
কিন্তু তুমি কিভাবে এতটা
পাথর হলে আমার প্রতি .... ?
কথাগুলো শুনে মিছে রাগ করো না ।
তুমি স্বার্থপর বলে তোমাকে স্বার্থপর
অপবাদ দিচ্ছি না ।
কিভাবে দিব বলো ?
এই মনটা এখনো যে শুধু তোমায় ভালোবাসে ....
আমি চেষ্টা করেছি তোমাকে ঘৃণা করতে ।
কিন্তু আমি বার বার ব্যর্থতার
শিকলে আঁটকে গিয়েছি ।
এতটুকু পাথর চাপা দিতে পারলাম না
তোমাকে ভুলে যেতে, ঘৃণা করতে ....
কি করবো তোমাকে যে অনেক
বেশী ভালোবাসি ....

December 12, 2013

এক মহিলা তার পরিবারের জন্য প্রতিদিন রুটি বানাত

এক মহিলা তার পরিবারের জন্য প্রতিদিন
রুটি বানাত এবং একটা অতিরিক্ত রুটি এক
কুঁজোর জন্য বানিয়ে জানালায় রেখে দিত।
কুঁজো প্রতিদিন রুটিটা নিয়ে যেত।
সে কৃতজ্ঞতা জানানোর বদলে বিরবির
করে বলত 'খারাপ কাজ নিজের কাছে রয়ে যায়
কিন্তু ভাল কাজ উপহার হয়ে ফিরে আসে।"
মহিলা তার উপর বিরক্ত হত কারন
সে কোনো দিন কৃতজ্ঞতা জানাতনা। কিন্তু
তারপরও মহিলাটি কুঁজোর জন্য
রুটি রাখত। আর কুঁজো ও সবসময় বিড়বিড়
করে একই কথা বলত।
এভাবে চলতে চলতে মহিলাটি একসময়
কুঁজোর উপর বিরক্ত হয়ে উঠে। ঠিক করল
পরের দিন রুটির সাথে বিষ
মিশিয়ে দিবে।
ভাবনামত পরের দিন রুটির সাথে বিশ
মিশিয়ে জানালায় রেখে দিল। কিন্তু তার
মনে বার বার অনুশোচনা হতে থাকল।
তাই সে বিষ
মিশানো রুটিটা ফেলে দিয়ে নতুন
একটা রুটি রাখল জানালায়।
কুঁজো এসে রুটি নিয়ে চলে গেল।
যাওয়ার সময় বিড়বিড় করে বলল, 'খারাপ
কাজ নিজের কাছে থেকে যায় কিন্তু ভাল কাজ
উপহার হয়ে ফিরে আসে।"
অপর দিকে মহিলার ছেলে অন্য
শহরে গিয়েছিল কাজের খুঁজে। ৪-৫ মাস
ধরে তার কোনো খোঁজ নাই। ছেলের জন্য
মহিলাটি প্রতিদিন দোয়া করত।
ওইদিন হঠাৎ মহিলা তার দরজায় নক
শুনতে পেল।
দরজা খুলে দেখল তার ছেলে দরজায়
দাঁড়িয়ে আছে।
তার ছেলের অবস্থা ছিল খুব করুন। সে ছিল
খুব ক্ষুধার্ত আর রুগ্ন। তার পরনের কাপড়
ছিল ছেঁড়া। সে তার
মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল
এবং বলতে লাগল "আমি হয়ত আজ
ফিরতে পারতাম না। আমার শরীরে এক
বিন্দু শক্তি ছিল না। এক কুঁজোকে অনুরোধ
করায় সে আমাকে একটু রুটি দিয়ে বলল
'প্রতিদিন এই একটা রুটি খেয়ে আমার দিন
কাটে। কিন্তু আজকে তোমার আমার
চেয়ে বেশি দরকার। এইটা তুমি নাও।' সেই
রুটি খেয়ে আজ আমি বাড়ি ফিরলাম।"
মহিলাটির বুঝতে বাকি রইল
না যে রুটিটা তার হাতের বানানো এবং ঐ
কুঁজোটাই রুটিটা তার ছেলেকে.দিয়েছিল।
তখন
মহিলার মনে পড়ল বিষ মিশানো রুটির
কথা। যদি সে সেটা ফেলে না দিত
তাহলে তার ছেলে আজ মারা যেত।
সে সৃষ্টিকর্তার নিকট.হাজারো বার
কৃতজ্ঞতা জানাল।
খারাপ কাজ নিজের কাছে থেকে যায় কিন্তু
ভাল কাজ উপহার হয়ে ফিরে আসে।

লাশের জাদুঘর

লাশের জাদুঘর

১৯২০ সালের আগ পর্যন্ত প্রায়
তিনশ বছর ধরে সিসিলির
পালমেরো অঞ্চলে যেসব ধনী লোক
মারা যেত তাদের
সাধারণভাবে সমাধিস্থ
করা হতো না। তাদের সাজানো হতো আকর্ষণীয় সব
পোশাকে। তারপর সেগুলো সমাহিত
না করে রেখে দেওয়া হতো এক
মৃতদেহ সংরক্ষণাগারে।
সিসিলি শহরের ক্যাটাকম্ব
অঞ্চলের শব সংরক্ষণাগারের দেয়ালে এগুলো সারি বেঁধে সাজিয়ে রাখা হতো।
এভাবেই
সাজিয়ে রাখা হয়েছে অনেক অনেক
মৃতদেহ, ঠিক যেন লাশের 'জাদুঘর'!
অবিশ্বাস্য হলেও গা শিউরানো এ
জায়গাটি সত্যিকার অস্তিত্ব রয়েছে ইতালির সিলিতে।

অনেকগুলো মৃতদেহে কাপড়
পরানো আছে।
কাপড়গুলো দেখলে পুরনো আমলের
এবং নোংরা মনে হতে পারে। কিন্তু
ভালো করে দেখলে বোঝা যাবে লেস
দেয়া কাপড়গুলো এক সময়কার সবচেয়ে দামি কাপড়। সুতির
কাপড়গুলো এখনো সিল্কের
চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। সবার
গলায় ঝুলানো আছে মৃতের নাম।
কিন্তু
কালে কালে লেখা উঠে যাচ্ছে বেশির ভাগ পরিচয়পত্রেরই। কারো গলায়
ঝুলানো জীবিত বয়সের ছবি।

এই লাশের জাদুঘরের
রক্ষণাবেক্ষণকারী এখানকারই কিছু
ধর্মযাজক। এরা এক সময় এই মৃত
ব্যক্তিদের
আত্মীয়স্বজনকে এখানে জড়ো করে আয়োজন
করতেন প্রার্থনার। এমনকি ভোজসভারও আয়োজন
করা হতো। আসলে,
রীতি অনুযায়ী ইতালিতে মৃতদেহে আত্মা না থাকলেও
এভাবে পরিবারের সবাই জড়ো হলে,
আনন্দিত হয়ে পিকনিকের
আয়োজন করলে নাকি শান্তি পায় ওই আত্মাও! তাই যুগ যুগ ধরে এই
মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন
ওখানে এসে প্রার্থনা করেছে,
উৎসবে মেতেছে এ মৃতদেহের হাত
হাত রেখে খুঁজছে পরামর্শ!

এখন অবশ্য অনেক কিছুই
পাল্টে গেছে। এখন আর
এখানে পিকনিকের আয়োজন
করা হয় না। ভল্টে খাবার
নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ঢোকার
মুখে পাওয়া যায় রুটি ভাজার গন্ধ। দরিদ্র মানুষের
মধ্যে ধর্মযাজকরা রুটি বিলি করেন।

এই জায়গাটা কতোটা ভয়ঙ্কর
ভেতরে না ঢুকলে কল্পনাও
করা যাবে না। সাধারণত দুপুরের
খাবার পর খুব কম সময়ের জন্য
এখানে ভ্রমণে আসে পর্যটকরা।
পর্যটকদের জন্য বরাদ্দ গাইড বইতে তেমন তথ্যের উল্লেখ নেই।
সংরক্ষণাগারের দেয়ালেও
ঝোলানো নেই
কোনো সতর্কবাণী আসলে ধর্মযাজকরা এখানে পর্যটকদের
আনাগোনা চান না। তবে এখানকার
রক্ষণাবেক্ষণে আর ধর্মপ্রচার সাহায্য ইত্যাদির জন্য টাকার
অভাবেই তারা পর্যটকদের জন্য
দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এখানে ওই
অর্থে কোনো প্রবেশমূল্য নেই,
কিন্তু যে কোনো দান গ্রহণ করা হয় সাদরে।

ভিতরে প্রবেশ করা মাত্র
যে কোনো সাহসী মানুষেরও
গা ছমছম করে ওঠবে। ভয়, আতঙ্ক,
বিস্ময়, সবকিছু
একসঙ্গে এসে জাপটে ধরবে।
চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। নকল বা ডামি নয়। সত্যিকারের লাশ-
থরে থরে সাজানো। মোমের
জাদুঘরের মতো কৃত্রিম নয়।
অথবা মমির
মতো কফিনে ঢাকা নয়।
একেবারে সত্যিকারের মৃতদেহ। সরু করিডরের
দু'পাশে সারি করে বাঁধা মৃতদেহ;
হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে এমন
দূরত্বে। কেউ হতবাক হয়ে যান, কেউ
কেঁপে ওঠেন আতঙ্কে, কেউ চিৎকার
করে ওঠেন, কেঁদে ওঠেন অনেকে। আবার ভয় কিংবা ঘৃণা সত্ত্বেও
কৌতূহলবশত অনেকেই
আলতো করে কোনো মৃতদেহের
গায়ে বা কাপড়ে হাত ছুঁইয়ে দেয়!
আবার পরমুহূর্তেই
শিউরে উঠে সরিয়ে নেয় হাত। এসব কারণে কর্তৃপক্ষ মৃতদেহগুলোর
চারদিকে লোহার গ্রিল
দিতে বাধ্য হয়েছে।
অসাবধানতাবশত সিগারেটের
আগুনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক
মৃতদেহ। অনেক শিশু ঘটিয়েছে নানান ঘটনা। তাই এখন
মৃতদেহগুলো লোহার গ্রিল
ঘেরা জায়গায় ফ্লুরোসেন্ট বাতির
নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে,
কিংবা শুয়ে থাকে। এখন আর ঝাড়ু
দেয়া হয় না। মৃতদেহগুলোর হাড় কাপড় এতই
পুরনো হয়ে গেছে যে ঝাঁটার
আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে;
তাই ব্যবহার করা হয় ভ্যাকুয়াম
ক্লিনার। তাছাড়া সংরক্ষণের
স্বার্থে এখন প্রতিদিনের বদলে শুধুমাত্র রবিবার
দর্শনার্থীদের জন্য এ জাদুঘর
উন্মুক্ত হয়।

ক্যাটাকম্বে প্রথম সংরক্ষত হয়
ফাদার সিলভেস্ত্রো দ্য গাবি'ওর
দেহ। উনি মারা যান ১৫৯৯ সালে।
একই সময় সংরক্ষিত হয় চলি্লশ
জন সন্ন্যাসীর মৃতদেহ। বলা হয়,
ওই সময়কার প্লেগ রোগাক্রান্তদের চিকিৎসা করতে গিয়ে ওই
সন্ন্যাসীরাও আক্রান্ত হন
প্লেগে, মারা যান
কাছাকাছি সময়ে আর এ ঘটনার পর
থেকেই ক্যাটাকম্ব পরিচিত ণহয়ে ওঠে পবিত্র ভাবগাম্বীর্যপূর্ এক জায়গা হিসেবে। আর তৎকালীন
ধনী অভিজাত ব্যক্তিরাও
উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। যে তাদের
আত্মীয়দের মৃতদেহ কিংবা মৃত্যুর
পর নিজেদের মৃতদেহকেও যেন এই
পবিত্র স্থানে সংরক্ষিত করা হয়। কালক্রমে ক্যাটাকম্ব
হয়ে ওঠে গোরস্তানের
দামি বিকল্প।
মৃতদেহগুলোকে প্রথমে বিশেষ
করে সেলারে ভরে রাখা হতো এক
বছর। বদ্ধ ওই জায়গায় ওই সময়ের ভিতরে শুকিয়ে যেত মৃতদেহের
জলীয় সব উপকরণ। তারপর
রোদে শুকিয়ে মৃদতেহগুলোকে গোসল
করানো হতো ভিনেগারে। তারপর
খড়ে মুড়ে নানান
জবিটি দিয়ে পরিয়ে দেয়া হতো দামি- ঝলমলে একপ্রস্থ জামা। উনিশ
শতকে এসে অবশ্য মৃতদেহ
সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি বের হয়।
তখন মৃতদেহগুলোকে গোসল
করানো হতো আর্সেনিক
কিংবা মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া দিয়ে,
যাতে নাকি ত্বক
থাকে আরো জীবন্ত-সতেজ!
তবে এসব নিয়ে এখনকার
ধর্মযাজকরা,
যারা বর্তমানে ক্যাটাকম্বর দেখাশোনা করছেন তারা খুব
বেশি মুখ খুলতে চান না।

১৮৮০ সালে এসে এভাবে মৃতদেহ
সংরক্ষণ বন্ধ করা হয়। যেসব
মৃতদেহ তখনো পুরোপুরি সংরক্ষণ
করা হয়নি সেগুলো করুণ
পরিণতি ঘটে, পচে ক্ষয়ে একাকার
হতে থাকে ওগুলো। সেই থেকেই ক্যাটাকম্বের সুদিন আর ফেরত
আসেনি।

এখন আর কেউ ক্যাটাকম্বের
মৃতদেহের বিদেহী আত্মার জন্য
ফুল আনে না। একমাত্র ব্যতিক্রম
রোজালিয়া লোম্বার্ডোর মৃতদেহ।
হতভাগ্য এই মেয়েটি মারা যায়
মাত্র দু'বছর বয়সে ১৯২০ সালে। তার হতভাগ্য বাবা উদ্ভ্রান্তের
মতো হয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ না করার
নিয়ম ভেঙে তার মেয়ের
মৃতদেহটিকে সংরক্ষণ করেন।
ভদ্রলোক ছিলেন চিকিৎসক,
ইনজেকশন, প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি তার মেয়ের
মৃতদেহটি সংরক্ষণ করে রাখেন। ওই
ছোট্ট মেয়েটির
মৃতদেহটি ক্যাটাকম্বে সংরক্ষণ
করা আছে কাচের ঢাকনা দেওয়া এক
কফিনে। এখনো কি ভীষণ জীবন্ত শরীর। মনে হয় ঘুমিয়ে আছে।
ডাকলেই উঠে আসছে এক্ষুনি।

নানান বিপদ আছে এই ক্যাটাকম্বে।
এ শত শত মৃতদেহের
মাঝে এসে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে যান
অনেকেই। কেবল পর্যটকদের
বিপদই নয় বিপদে আছে ক্যাটাকম্ব
নিজেও। ভূ-গর্ভস্থ এই শব জাদুঘর উপরের যান চলাচলে এর
টিকে থাকাই এখন
রীতিমতো হুমকির মুখে।
তা ছাড়া যারা এর দেখভাল
করে রাখবেন সেই সন্ন্যাসীদের
সংখ্যা ৫০০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র
চলি্লশে। লাশের জাদুঘর
আস্তে আস্তে নিজেই
লাশে পরিণত হতে চলেছে

---রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
---রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।