মনে পড়লো
অনেক বছর পরে
বুকের থামা ঝড়ে
না পাওয়া প্রথম প্রেমের প্রথম প্রহর
মনে পড়লো।
অনেক বছর পরে
তোমার কণ্ঠস্বরে
তোমায় ছাড়া ছন্ন ছাড়া খাঁখাঁ শহর
দুপুর বেলা কি একেলা!
নদীর মত বয়েই যেতাম
কথায় কথায় ভীষণ ব্যাথায়
মনে পড়লো।
অনেক বছর পরে
দুজন পরস্পরে
ফিসফিসিয়ে রাতবিরেতে
অর্থ ছাড়া শর্ত গুলো
মাথার কীড়ে দিব্যি দিতো,
ঘাসের জমিন ভালোবেসে
তোমার কোমল কান্না এসে
আমার বুকটা ভিজিয়ে দিতো
মেঘের মত, এলো মেলো
মনে পড়লো।
অনেক বছর পরে
চিঠির ভাঁজে গোলাপ পাতা
লজ্জা ভাঙ্গার গোপন কথা
পড়তে গিয়ে তিরতিরিয়ে
কাঁপছিল মন ভীষণ রকম!
বুকের বা-পাশ এপাশ ওপাশ
শরীর বেয়ে পায়ের পাতায়
কপালের টিপ চুলের ক্লিপ
ঠোঁটের চুমু খোঁপার কাঁটায়
কথায় কথায় ভীষণ ব্যাথায়
মনে পড়লো।
অনেক অনেক বছর পরে
তোমারও কি মনে পড়ে?
নাকি রূপ কথারা চুপ কথা সব?
ভুলেই গেছ সেই অনুভব
যেই কথাতে রোমাঞ্চ সব
উছলে পরা জোছনা রাতে
সাতটি তাঁরার স্বপ্ন হাতে
চোখের কাজল মিটিয়ে দিতো
আদ্যোপান্ত ভিজিয়ে দিতো
আদ্যোপান্ত ভিজিয়ে দিতো
মনে পড়লো?
নীল প্রজাপতি ( অভিমানের গান-১)
একদিন হব নীল প্রজাপতি
তোমার করেছি যা কিছু ক্ষতি
সেদিন মিটিয়ে দেব খেলা
ভাঙবো তোমার অবহেলা।
আমি হব হব প্রজাপতি
দেব ডানায় ডানায় উড়াল
ফুলে ফুলের মধু মুলে
রাখিব এ ঠোঁট শঙ্খ চুড়াল!
শীতল রক্ত উন্মক্ত
নাচিবে উল্লাসে
এ মন হাওয়া হাওয়ায় ভাসে।
আমি হব হব প্রজাপতি
দেব ডানায় ডানায় উড়াল।
রেশমের নীড়ে,
মেঘেদের ভিড়ে
বসন্ত ফুরায়ে শীতে
দির্ঘ্য শীত নিদ্রা দিতে
ঘর বাঁধবো শুঁকনো ফুলের পাতায়
সুর গাঁথবো অন্য গানের কথায়।
আমি ফিরিবনা ফিরিবনা আর
মুছে যাব পথ ফিরে আসিবার
আমি হব হব প্রজাপতি
দেব ডানায় ডানায় উড়াল।
ভালোবাসা নেই বুকে (ভালোবাসার গান -৬)
তুমি চাঁদের পড়ে জোছনা খুঁজো না
ও রাত তোমার ছিল না।।
শুধু তুমি চাওনি বলে
ও চাঁদের জোছনা গলে গলে
ঝরেছে অঝর ঝরনা
ও রাত তোমার ছিল না।
ও রাতের তারায় তারায় দুঃখ হারায়
বেদনার গুঞ্জনা
ও রাত তোমার ছিল না।
সাদা কাগজের ফুল শুঁকে
ভেবে নিও ভালোবাসা নেই বুকে
ধূসর মেঘলা আকাশ দেখে
ভেবে নিও ভালোবাসা নেই বুকে।
তুমি গানের ভেতর সুর খুঁজো না
ও গান তোমার ছিল না।।
শুধু তুমি চাওনি বলে
ও গানের সুর তুলে তুলে
কেঁদেছে অচিন চন্দনা
ও গানটি তোমার ছিল না।
ও গানের সুরে সুরে অনেক দুরে
হৃদয়ো বন্দনা
ও গানটি তোমার ছিল না।
মিছে ভাবনার দুখে দুখে
ভেবে নিও ভালোবাসা নেই বুকে
দীঘির কালো জল দেখে দেখে
ভেবে নিও ভালোবাসা নেই বুকে।
একটি ভয়াবহ বিরহ প্রেমের কবিতা
আমি বিরহের কবিতাই পছন্দ করি।
পানসে প্রেমের কবিতা আমার পছন্দ নয়।
আমি ভালোবাসছি, তুমি বাসছো না
আমি কাছে আসছি, তুমি আসছো না
তা দিয়ে ভয়াবহ প্রেমের কবিতা লেখা হয় না
আর পানসে প্রেমের কবিতা আমার এক্কে বারে পছন্দ নয়।
তার চেয়ে একপেশে বিরহই ভাল
“আমি তারে ভালোবাসলাম, সে আমাকে বাসলোনা”
অন্তত এই রকম একটা গড়ান অনুভূতিও
একফোঁটা বিরহ বোধকে ভয়াবহ উসৃঙ্খল করে দিতে পারে!
এই রকম একটা সস্তা অনুভূতির খাতিরেও
একটা নিতান্ত ভদ্র ছেলে দাড়ি-গোঁফ-বাবরী রেখে
রাস্তায় রাস্তায় বছরের পর বছর ঘুরে বেড়াতে পারে
টানা সাত রাত সাত দিন না ঘুমিয়ে অপলক তাকিয়ে থাকতে পারে
তের তালার কার্নিশে রাতের পর রাত পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে পারে
অথবা মুহূর্তের সিদ্ধান্তে একটা লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে নিতে পারে-
একটা মাত্র লাফ, হ্যাঁ/না হ্যাঁ/না একটা সিদ্ধান্তের ব্যাবধান মাত্র!
অথবা বিরহের চেয়েও সস্তার এক বোতল মদ কিনে এনে
ঢক ঢক করে এক নিঃশ্বাসে সব গিলে নিতে পারে!
লক্ষ লক্ষ দেশেলাই, লক্ষ লক্ষ ছিগারেট,
বোতলে বোতলে মদ ব্রথেলে ব্রথেলে নারী!
যাক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত সব ছারখার হয়ে যাক
যাক, চরিত্র নামের ঠুনকো বিষয়টিও নষ্ট হয়ে যাক
যাক, ভালোবাসার নথিপত্র গুলোও পুরে পুরে ছারখার হয়ে যাক
যাক, অতি সাধারণ ভদ্র ছেলেটিও একদম নষ্ট ভ্রষ্ট হয়ে যাক…
একটু একটু করে, ধীরে ধীরে অথবা একবারেই ধ্বংস হয়ে যাক।
” না! না! না! সে আমাকে ভালোবাসে নি” …শুধু এই একটা বোধইকি যথেষ্ট নয়!
বিনিময়ে এক নিঃশ্বাসে পুরো পৃথিবীটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া যায় ,
তসনস করে দেয়া যায়, এলিয়ে টলিয়ে টালমাটাল করে দেয়া যায়
জগতের সব সুর ছন্দ তাল এক থাবায় ছিনিয়ে নেয়া যায়, মুঠু খুলে ফুঁ দিয়ে তা আবার উড়িয়েও দেয়া যায়!
আবার অঙ্কের খাতা গুলু সোনালি শস্যের মতো কবিতায় কবিতায় ভরেও উঠতে পারে
রাতারাতি বেড়ে উঠতে পারে সব ভয়াবহ প্রেমের কবিতা, সর্বনাশা সব বিরহের কবিতা,
তীব্র পাওয়া নাপাওয়ার কবিতা… অর্থহীন সৃষ্টি ধ্বংসের কবিতা ।।
ধ্বংস? হ্যাঁ, ছেলেটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারতো, অথচ সে এখন সৃষ্টির খেলায় মেতে উঠেছে
মৃত্যুর দ্বারগোঁড়ায় দাঁড়িয়ে হয়তো বা এই অর্থহীন জীবনটাকেও তার কাছে ভয়াবহ অর্থবহ মনে হয়েছে…
মনে হয়েছে এই তুমি আছ, এই আমি আছি,
একই পৃথিবীর বুকে নিঃশ্বাস নিচ্ছি.
ইচ্ছে করলেই তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখছি ..
তোমার বাড়ির সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকছি…
এক জনম বেঁচে থাকার জন্য এই কি যথেষ্ট নয় ?
ছেলেটি আত্ম হত্যা করতে পারতো, শেষ পর্যন্ত করেনি
শেষ পর্যন্ত অতটা সাহসী হয়ে উঠতে পারেনি সে ।।
শেষ পর্যন্ত অতটা নির্মম হয়ে উঠতে পারেনি সে ।
তাছাড়া যারা ভালোবাসে তারা তো আর রাতারাতি খুনি হয়ে উঠতে পারে না!
আগেই বলেছি, আমি বিরহের কবিতাই পছন্দ করি।
তাই যখন তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে
সমস্ত পৃথিবী তন্ন তন্ন করে খুঁজে যখন কোথাও এক ফোঁটা ভালোবাসা পাবেনা
যখন দেখবে আমি ছাড়া তোমার জন্য আর অন্য কেউ অপেক্ষা করে নেই
তোমার জন্যে ফোঁটা একমত্র নীলপদ্মটি নিয়ে আমিই দাঁড়িয়ে আছি
তখন তুমি আমার কাছে উদ্ভ্রান্তের মত ছুটে আসবে
বলবে আমায় ফিরিয়ে নাও তুমি, আমায় গ্রহণ করো…
আমি নিশ্চিত সেদিন তোমায় ফিরিয়ে দেব।
আমি বিরহের মানুষ বিরহেই থাকতে চাই…
আমার জন্য ভালোবাসা নয়, আমার জন্য কোন ভালোবাসা না
আমার জন্য শুধু বিরহ বেদনা
তাছাড়া আমি সারা জীবন তো শুধু বিরহের কবিতাই লিখতে চেয়েছি
বিরহের মাঝেওতো প্রেম থাকতে পারে!
এই সব দিন রাত্রি
রাত্রি গেল এলোমেলো
বিষাদ রাঙা ভোরে
কত জনই এলো গেল
ডাকছি আমি তোরে।
তুই হলি মন মুনিয়া পাখি
দুঃখ সারা বেলা
বৃষ্টি হলে জমিয়ে রাখি
অর্থহীন এ খেলা!
খেলতে খেলতে কেটে গেল
অনেক কটা বছর
বয়স হল এলোমেলো
প্রথম নেশার আছর।
নেশার ঘোরে ডাকছি তোরে
আয় না ফিরে তুই
ঝগড়াঝাঁটি কান্নাকাটি
পেছন ফিরে শুই।
যতই বলিস আবোল তাবোল
আমি তোকে চাই
তুই বললি- কে গো তুমি!
তোমায় মনে নাই।
মনের কথা মনেই থাকুক
যাস না আমায় ভুলে
পর জনমে দেখা হলে
দেখাস হৃদয় খুলে।
দুপুর হলে খেলার ছলে
আমার নামটি ডাকিস
কাছে নাহয় নাইবা এলি
দুরেই আমার থাকিস।
আমার থাকিস মনে রাখিস
আমিও ছিলাম তোর
দিন রাত্রি এলোমেলো
বিস্বাদ মাখা ভোর।
ভোরের পাখি ডাকাডাকি
সেও তো আমার পর
রাস্তাটারে আপন করে
ছেঁড়ে ছিলাম ঘর।
রাস্তা আবার ফিরিয়ে আনে
নীড়ের ঠিকানায়
সারা জীবন বাউল হয়ে
থাকাই হল দায়।
দিনের শেষে সন্ধে হলে
ফিরি যখন ঘরে
শুন্য খাঁচার দরজা বলে
মনটা কেমন করে।
তোমার ঠোঁটেই চুমু দেব
যদিও বা নিশ্চিত জানি
ওখানে কেউ বিষ রেখে গেছে
খইফুল গোখরার বিষ!
তবু ওই ঠোঁটেই চুমু দেব
জনে জনে গুঞ্জন কানা কানি
ও ঠোঁটে মৃত্যু লিখা আছে
দ্বিখণ্ডিত জিহ্বার শীষ!
মানুষ জানেনা হয়তো
যারা ভালোবাসে
তারা ভালোবাসে
তারা ভালোবেসে মৃত্যুও ভালোবাসে!
সে ছুঁইলে আগুন জ্বলে।।
[বিক্রমপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত]
বড় নাজুক, বড় নাজুক গো আমি!
আমারে ছুইয়না তুমি বেলা অবেলায়
ও জ্বালা সহনের ক্ষেমতা আমার নাই,
কহনও না যায়, ও আগুন সহন ও না যায়!
সেই কোন সাইঝঝা বেলায়-
হাসতে হাসতে একটা ফুলটোক্কা দিয়া গেছিলা!
ওমনি আমি লজ্জাবতী লতার লাহান শরমে গুটাইয়া গেছিগা!
মাইজ্ঝা রাইতে চান্দের আলোয় বুকটা মেইল্লা দেহি-
ত্বকের নিচে কি চাপ চাপ কালা রক্ত জমা গো!
ব্যাঙের ছাতায় লাল লাগলে আঙ্গুলে জেমুন হয়
কেমুন জানি দরদে শিরশির করা একটা বেবোধার মতন বোধ
হাসি ঠাট্টা তামসার ছলে-
এই কি প্রকার বন্ধু তুমি লইলা প্রতিশোধ!
বোম্বাই মরিচের লাহান আহারে কি তুক্ষার জ্বলন!
মরমে মরিয়া গেলেও-কেউরে কি তা যায় বলন?
বিয়াইন্না রাইত তরি একটা টুঁশব্দও করিনাই ঠোঁডে!
পাড়া প্রতিবেশীরা না আবার ঘুম থেইক্কা জাইজ্ঞা ওডে!
শেষমেষ জহন আখেরি জুনি পোকাডাও আলো নিবাইলো-
ভীতরে ভীতরে আমি তহন চিক্কইর পাইড়া কানছি
মুখ চাইপ্পা ধইরা আমি ফোঁপাইয়া ফোঁপাইয়া কানছি
গলার ঢোঁড় ফুলাইয়া আমি বিল্লাপ কইরা কানছি
চউক্ষের শেষ পানির ফোডাডাও আমি নিরলে বাওয়াইয়া দিছি গো-
গাঙ্গে ভাসাইয়া দিছি সব বিয়ান হওনের আগেই –
পাষাণের মতন কবর দিছি পচন ধরা বুক
আমারে পোড়াইয়া গো বন্ধু তুমি কিযে পাইলা সুখ!
বোম্বাই মরিচের লাহান আহারে কি তুক্ষার জ্বলন!
মরমে মরিয়া গেলেও- কেউরে কি তা যায় বলন?
বড় নাজুক, বড় নাজুক গো আমি!
আমারে ছুইয়না তুমি বেলা অবেলায়
যদি আমারে টোফরে না লইবা বন্ধু-
কেন ছুইছিলা আমারে তুমি, কেন ছুইছিলায়?
আকাশ ছোঁবে খাঁচার পাখি?
আমি কোন যুক্তি বুঝি না
আমি শুধু আবেগ বুঝি
পুরনো সব চিঠি পত্র ঘেঁটে
তোমার গায়ের গন্ধ খুঁজি!
সবাইকে মৃত্যু ছুঁয়ে যায় না
শুধু আমাকেই ছুঁয়ে যায় বার বার
রাত্রি গভীর হলে চুপি চুপি
ফিরে আসে সে আবার,
প্রতি রাতে মুখোমুখি শোয়
মাথার চুলে বিলি কেটে দেয়
মিষ্টি গল্প কথার ছলে-
পুরনো সব কথা তুলে
সব! সব তসনস করে দেয়!
আমার ঠুনকো তাসের ঘর!
আমার বালুর ঢিপি মন
লন্ড ভণ্ড হয়ে যায় নীলা সব
চুর মার হয়ে যায় সে তখন!
আমাকে ঘিরে বৃত্তাকারে
নেচে চলে আলেয়ার আলো
বলে ভস্ম হও ধ্বংস হও তুমি
নিজে জ্বলে আগুন জ্বালো!
নিজে জ্বলে আগুন জ্বালো?
এর চেয়ে তো মৃত্যু ভালো!
মৃত্যু বলে আর দেরি নয়-
তুমি আমার সঙ্গে চলো!
আমি তার সঙ্গে চলি
সঙ্গে তার রঙে ঢলি,
তার সাথে পায়ে পায়ে
বহু দুর হেঁটে গিয়ে
নিজের সাথে কথা বলি।
আমি অমরত্ব চাই না
আমি কোন যুক্তি বুঝিনা
আমি শুধু আবেগ বুঝি,
চির নিদ্রা আর খুজিনা
আমি শুধু তোমায় খুঁজি
বহু দুর হেঁটে গিয়ে
ফিরে আসার রাস্তা খুঁজি!
এভাবে রাত্রি গড়ায়
সকালের শেকল পরায়
এভাবেই বছর গড়ায়
জীবনের শেকড় ছড়ায়।
আমি নাহয় বন্দি আছি
তুমি ও কি মুক্ত নাকি?
বাঁচার মত বাঁচবে সখী?
আকাশ ছোঁবে খাঁচার পাখি?
পাপী
আমি ভাল নেই
তুমি ভাল আছ?
মনে আছে কিছু?
আমাদের কৃত পাপ?
বৃষ্টিতে ভেজা দিন
পাশাপাশি রিকশায়
হুড তুলে পলিথিন?
আমার চঞ্চল হাত
তোমার মৃদু প্রতিবাদ
আমার অস্থির ঠোঁট
তোমার তীব্র প্রতিরোধ?
অথবা
একটু খানি রৌদ্র বেলায়
লেকের ধারে গাছের তলায়
ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি হলে
তুমি আমি ছাতার তলে,
কিশোর বয়স কৌতূহলে
তোমার শরীর হাতরে চলে?
অথবা
নির্জনে দেখা হলে
দরজার খুঁট তুলে
আমার অসভ্য হাত
তোমার ব্রেসিয়ার খুলে!
তুমি বলতে এ “পাপ”
আমি বলতাম ভালবাসা
তুমি বলতে “থাম –
এ খেলা সর্বনাশা!”
অতঃপর
আমি নতজানু
তুমি আধ শোয়া
তুমি ভীত সন্ত্রস্ত
আমি বেপরোয়া।
তোমার উরুজঙ্ঘা
আমার প্রেমসংজ্ঞা
তোমার ঊরুসন্ধি
আমি মোহ বন্দি।
তুমি বলতে এ “পাপ”
আমি বলতাম ভালবাসা
তুমি বলতে “থাম –
এ খেলা সর্বনাশা!”
ও খেলা ভালোবাসা-
ও খেলা সর্বনাশা
জেনে শুনে করেছি পাপ
সে পাপে দহন আছে
জ্বলে পুড়ে মরছি আজো
মরে গিয়ে বাঁচার মাঝে।
খোঁজ
খুঁজে দেখ তুমি – ভেবে দেখ তুমি
কার চোখে চোখ রেখে শান্তি পাও?
কার বুকে মুখ রেখে বাঁচতে চাও?
কার সাথে সংসার – কার সাথে পরপার
কার কথা ভাব তুমি- প্রতিক্ষণ মনে মনে?
তার হাতে হাত রেখে- কথা দাও এই ক্ষণে.
কথা দাও এই ক্ষণে - কথা নাও এই ক্ষণে
জেনে নাও তার কথা- হৃদয়ের প্রয়োজনে।
হারাবার কিছু নেই- তাকে যদি নাই পাও
ভালোবাসার প্রয়োজনে- শুধু ভালোবেসে যাও।
চাঁদের বুকে ম্লান করা অন্ধকারে
দীপ্তিতে ডুবে থাকা মানুষের হৃদয়
চন্দ্র পৃথিবী সূর্য যখন মুখোমুখি হয়
কত কত চন্দ্র বৎসর পরে !
ক্ষণিকের ছায়া প্রচ্ছায়া উপছায়া
গ্রাস হয়ে যাওয়া মাটির এই কায়া
রাত্রি গভীর হলে কি মধুর ছলে
অশান্ত সমুদ্র স্ফীত করতলে
জোয়ার ভাটায় রক্ত উঠে নামে
হৃদয়ের মাঝে হৃদয় এসে থামে,
পাংশু বিবর্ণ যদি হও রক্ত ক্ষরণে
হৃদয় কে সামলে রেখ হৃদয় গ্রহণে।
প্রতিশোধ
আমার অস্তিত্ব তুমি টের পাও না
তাই না?
অপেক্ষা কর,
আগে তোমার চুলের ডগা থেকে হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে
মগজের শেকরে গিয়ে বাসা বাঁধি,
শামীয়ানা টানাই, জলসা বসাই
তখন টের পাবে।
আমাকে অবহেলা করে তুমি শান্তি পাও,
তাই না?
অপেক্ষা কর,
আগে বাতাসের সাথে সাথে তোমার ফুসফুসে ঢুকে নেই
অতঃপর তোমার শরীরের প্রতিটি কোষে কোষে গিয়ে বিছানা পাতি
তোমাকে জ্বালাই পোড়াই শীতল করি
বৃষ্টি হয়ে তোমার শরীরের প্রতিবিন্দু দিয়ে ঝরি
ঠোঁট গুঁজে দেই তোমার নরম ঠোঁটের মাঝে
নাক ঘষে দেই পদ্ম প্রতিম বুকের ভাঁজে
হোক না একটু অসভ্য হউক আমার আঙ্গুল,
দুলছে দেদ্যুল তোমার শরীর নাচের পুতুল!
কি আশ্চর্য! তুমিও দেখ!
প্রসব জন্ত্রনার মত কাম এসে জমছে তোমার ঊরুসন্ধিতে!
ক্ষুধার্ত বাঘিনীর মত খামচে ধর আমার এ পীঠ,
খামচে ধরে, তীব্র স্বরে চাঁপা চীৎকার,
বুকের পশম কামড়ে ধরে তুল সীৎকার!
জেনে রেখ-
সেই দিন আমিও প্রতিশোধ নেব
মাঝ পথে এঁটো করে ছেঁড়ে দেব তোমার শরীর
ভোঁতা অশ্রে গলা কাঁটা হরিণীর মত তুমি-
থেকে থেকে কাতরাবে, তরপাবে
আমাকে সেদিন তুমি কি ভীষণ টের পাবে!
টের পাবে।
চেয়ে ছিলে বলে
যদি তার সাথে আরও একটু ভালোবাসা বাকি থাকে
তবে তার কাছে ফিরে যাওয়ার কোন চোরা পথ-
অথবা তার ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা
আছে নিশ্চয়!
এমনও তো হতে পারে
কোন এক সোনালি আলোর ভোরে
অথবা গভীর রাতের আঁধারে
বালিশে কান্নার দাগ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই,
কারো ইতস্তত স্পর্শে ঘুম ভেঙ্গে গেলো তোমার,
আড়মোড়া ভেঙ্গে চোখে নেমে এল অপার বিস্ময়!
ঠোঁটের আড়ষ্টতায় শব্দ, শব্দের আড়ষ্টতায় ঠোঁট!
ঠিক সেই খানে, খুঁজে পেলে জীবনের অন্য কোন মানে
(সে তোমার আরাধনা, সেতো বিধাতাও জানে!)
প্রশ্ন কর তারে- কেন এতটা প্রহর ভেঙ্গে সেই তুমি এলে!
উত্তর পাবে- তুমি আমায় প্রতিটি প্রহর চেয়ে ছিলে বলে।
দুরেই থাকো
ছুঁয়েও দেখবো না
ডাকবোনা তোমায় আর প্রিয় নাম বলে
ফেরাব না তোমায় আর ছলে বলে কৌশলে।
আমিও দুরেই থাকি,
সেই বেশ ভালো
যেতে যেতে কে আবার ফিরে তাকালো?
জোছনা রাতের দুপুরে
এই সব জোছনা রাতের দুপুরে,
জীবনের ভিতরে জীবন নিয়ে
তাঁরার মতো অজস্র সোনালী ফুলে
অথবা ফুলের মতো অজস্র তাঁরায়
ক্লান্তি শীতল হলে মৃত্যু আসে।
স্বপ্নের ভিতরে স্বপ্ন খুঁজিছে যারা
জীবনের মৃত্যু কূপে এসে,
তেমনি আমি পেয়ে ছিলাম তারে
একটি তাঁরার খোঁজে রাতের আঁধারে!
চোখের পাতায় ঘুম জমেছিল ঢের
হৃদয়ের কাছ হতে খুব কাছে এসে
আমরা ক্লান্ত হলে ভালো বেসে বেসে
তুমি আমি দুটি পথে গেছি অবশেষে।
যতদিন এই দেহে প্রাণ আছে
যা কিছু দূরের তা ভেবে নাই কাছে
এই হৃদয় আর কতটুকু কথা শুনে!
এই মন আর কতদিন খাঁচার পাখী!
এক জনমে আর কতটাই বা হবো এলোমেলো?
দুরুত্ত নিয়ে বেঁচে থাকা বরং তার চেয়ে ভালো
এই বেশ আছি
ভেবে নেই আমি তুমি খুব কাছাকাছি
স্মৃতিটুকু কাছে ডেকে হাতে হাত রাখি
শিহরিত রোমকূপে জমানো শিশির গায়ে মাখি।
মধুচন্দ্রিমা
শতাব্দী কাল আগে
আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নিঃশ্বাস জমাট বেঁধে হীরকের মত
রাত্রি শেষে ভোরের একেকটি নিঃসঙ্গ শিশিরের বিন্দু হত।
জানো অতন্দ্রিলা!
আমার দীর্ঘশ্বাস এখন আর জমাট বাধেনা বেলা অবেলায়,
ওরা এখন এলোমেলো বাতাসে ভাসমান পুঞ্জীভূত মেঘ
বাকাট্টা ঘুড়ির মতন পাক খেয়ে খেয়ে পড়ন্ত বিকেলে
কোথা হতে কোথা ছুটে চলে শিকারি কুকুরের মত!
আমার সব অসভ্য দীর্ঘশ্বাস-
বিশুদ্ধ ধোঁয়ার অবয়ে একে বেঁকে ছুঁয়ে যায় তোমার শরীর
অতঃপর ভাত ঘুমের শয্যা পাতে তোমার সুগভীর নাভিমূলে,
রাত্রি গভীর হলে, বৃত্তাকারে ছুঁয়ে থাকা তোমার বক্ষ জুগলে
কত নির্ঘুম রাত চোখের পাতায় এনে তুমি স্থির হও স্বচ্ছ সরল,
প্রতি রাতে তুমি মেলে ধর তোমার পদ্মপাতার মত স্ফীত বুক,
প্রতি রাতে তুমি মেলে ধর অক্ষত কুমারীর পুষ্পিত সুখ
আমার তৃষ্ণা আকণ্ঠ গিলে নেয় তোমার হৃদয়ের উষ্ণ তরল,
তুমি আমায় মৃদু বাধা দাও, হাসি ছলে বলো নির্লোভ হতে!
তোমার শরীরে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার আসে প্রতি পূর্ণিমার রাতে
পূর্ণ মৌচাকের মত উন্মেষ হয় তোমার শরীরের ঘন টলমল,
তোমার বুকের ভাঁজে সে রাতে ফুটে থাকে অজস্র বাতাবি লেবুর ফুল।
আমার নিঃশ্বাস ফিরে আসে সেই ঘ্রাণ আর জোছনা গায়ে মেখে
আমি ভূমধ্য সাগরের কোন নির্জন দ্বীপে আমাদের কল্পিত মধুচন্দ্রিমার কথা ভাবি-
আমার চোখে ভেসে উঠে ইতিহাসের মত তোমার অতৃপ্ত মুখ
নিছক কৌতূহলে অপলক ছেয়ে থাকা ব্যাথাময় প্রশ্নাতুর দুটি চোখ।
তুমি জেনে রাখ অতন্দ্রিলা
আয়নার ওপাশে আমিও দাঁড়িয়ে থাকি
আমিও তৃপ্তি পাইনি অতন্দ্রিলা
ভালবেসে কেউ তৃপ্ত হতে পারেনি কোন কালে।
কেমন আছ তুমি?
আমি যখন হৃদয়ের গভীর হতে শব্দ তুলে আনি
বুকে যন্ত্রণা চেপে ধরে যখন আবেগহীন কণ্ঠে জানতে চাই
– কেমন আছ তুমি?
আমি আসলে শালীনতার ভনিতায় মিথ্যে প্রশ্ন করি।
আসলে আমি জানতে চাই না তুমি কেমন আছ।
আসলে আমি শুধু শুনতে চাই তুমি কতটা কষ্টে আছ
কতোটা যন্ত্রণায় তুমি জমাট বিবর্ণ নীল হয়ে আছো
কতটা শূন্যতায় তুমি অনস্তিত্তে বিলীন হয়ে আছ
কাছে না পাওয়ার হাহাকারময় প্রতিটি দিনে
তোমার যন্ত্রণার প্রতিটি বিন্দু কি করে আমাকে চিনে
কতোটা বেদনা খুঁড়ে তার মাঝে শুয়ে আছ তুমি,
বল তুমি কতোটা বুঁদ হয়ে আছো আকণ্ঠ বিষে
কার চোখে চোখ রেখে শান্তি পাওনি তুমি অবশেষে!
আমি চাই তুমিও হৃদয়ের গভীর হতে শব্দ তুলে আনো
আমি চাই তুমিও প্রশ্ন করে করে আমাকে রক্তাক্ত কর
– মসৃণ স্বরে জিজ্ঞেস কর “কেমন আছ তুমি?”।
আমি চিৎকার করে বলবো “ভাল নেই তুমি ছাড়া”
আমি নির্লজ্জের মতো বলবো “ভাল নেই তুমি ছাড়া”
তুমি জেনে রাখ -“আমি ভাল নেই তুমি ছাড়া”।
যে ছিলো আমার ব্যাকুল কামনার নারী
তার চুল, তার ঘ্রাণ দুঃস্বপ্নের মত তাঁড়া করে!
আকন্ঠ যন্ত্রনায় জন্তুর মত তারে ডাকি
হৃদয় এফোঁড় ওফোঁড় করা বিষাক্ত নীল তীরে।
তবু সব সয়ে যাই সয়ে যেতে হয় বলে
যে যাবার সে তো এভাবেই যায় চলে!
বিদীর্ণ পটভূমিতে ছায়াচিত্র অকিছে সময়
অবছায়ায় তবু যারে দেখি, সে তো আমার নয়!
সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে বালুঘড়ির,
অবিশ্বস্ত চোখের পাপড়িতে বিহ্বল!
গাংশালিকের সিকতা মাখা পালক
বসন্ত পাখির চোখে কেন বেদনার মত জল?
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে ভেঁজা কাগজের পৃথীবি
নিঃশব্দ বলছে সখী ফিরে আসবি কিনা বল?
স্বপ্ন দেখা
নিয়ে আমার স্বপ্ন দেখা
উড়ে গেছে একলা পাখি ,
আমি এখন একলা একা
পথে পথে চোখটা রাখি।
শূন্য হৃদয়
আকাশ জুড়ে নির্জনতা
তোমার সাথে কইবে কথা,
আমি যখন থাকবো নাকো
বুকের কোনে দুঃক্ষ বুনে
শূন্য হৃদয় সইবে কিগো?
বিভ্রম
এই বেঁচে থাকা একটা নিশ্চিত গভীর ষড়যন্ত্র
আর এই মরে যাওয়া তারোও চেয়ে বড় গভীর কোন ষড়যন্ত্র।
তোমরা দেখনা প্রতিটি জন্মের সাথে মৃত্যু লেগে থাকে?
যখন একেকটি জন্মের আয়োজন করেন প্রানের স্রষ্টা,
প্রকৃতির আতুর ঘরে জটলা পেকে থাকে-
মায়া, মোহ, ভ্রম; বিব্ভ্রম, অধ্যাস, অলিকতা!
জন্ম সুত্রে শরীরে করে নিয়ে আসবে ক্ষুধা আর কাম
তার পর যতদিন না তুমি মৃত্যুর দেখা পাও, ততো দিন-
তোমাকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে ক্ষুধা
তোমাকে বেঁধে রাখবে সংসার,
তোমাকে লোভ দেখাবে জীবন
তোমাকে নির্লোভ করবে মৃত্যু,
জৈবিক তাড়নায় তুমি পাপ করতে বাধ্য
ক্ষমার প্রয়োজনে তুমি স্রষ্টার কাছে নত হতে বাধ্য!
তার পর কোন এক দিন তোমার আর ক্ষুধা থাকবে না!
তোমাকে পথ ভ্রষ্ট করবে না আর যাতনার কাম,
তুমি এই বাস্তবের মত সংসার ভেঙ্গে চলে যাবে,
তুমি জানো, তোমাকে যেতেই হবে,
তবুও তুমি সংসার বেঁধে ছিলে!
কি সেই সংসার?
যার কঙ্কাল: মায়া, মোহ, ভ্রম; বিব্ভ্রম, অধ্যাস, অলিকতা?
তোমার প্রীয় মানুষেরা তোমাকে নিজের হাতে পোড়াবে এক দিন
অথবা নিজের হাতে তোমাকে মাটি খুঁড়ে শোয়াবে এক দিন!
তোমার এই প্রীয় শরীর মাটির সাথে মিশে যাবে ধীরে ধীরে,
আগুনে যদি তা ভষ্ম না হয়ে গিয়ে থাকে-
তোমার কঙ্কাল আরো বড়জোর দু,শ বা চার,শ বছর,
তার পর আর কোন মৃত্যু তোমাকে তাড়া করবে না জীবন ভর।
মহাবিশ্বের তুলনায় পৃথিবী যেমন একটি শিশির বিন্দু,
মহাকালের তুলনায় তোমার জীবনের কাল প্রায় শুন্যের কাছাকাছি!
তুমি কখনো প্রশ্ন করতে পারবে না-
কে এই মায়াজীবী , কূহকজীবী, ঐন্দ্রজালিক!
সে অধিকার তোমার নেই।
তুমি বড়জোর নিজেকে প্রশ্ন করতে পারো ” কে আমি?”
শুধু নিজের হাতের দিকে এক বার গভীর ভাবে তাকাও-
ভালো করে তাকিয়ে দেখো ত্বকে মোড়ানো মানুষের কঙ্কাল!
তুমি চারিপাশে তাকিয়ে দেখো,
কত শত শত কঙ্কাল রঙ বেরঙ্গের ত্বকে মোড়ানো!
কত লোভ, কত হিংসা, জিঘাংসা, ক্রোধ, ক্ষুধা, কাম
ত্বকে মোড়ানো মায়ার শরীর, ভ্রম; বিব্ভ্রম, অধ্যাস, অলিকতা!
তার চেয়ে বরং বুক ভরে নিঃশ্বাস নাও
বুকে হাত দিয়ে নিজের হৃদপিন্ড স্পর্শ কর,
নিজেকে অনুভব কর সম্পূর্ণ নতুন করে,
ক্ষনিকের তরে প্রকৃতির গভীর ষড়যন্ত্র ভেঙ্গে দাও
একটি ফুলের কাছে ছুটে যাও, বুক ভরে ঘ্রাণ নাও,
সেই ফুল হাতে ছুটে যাও ভালবাসার মানুষের কাছে
নির্দিধায় বলে দাও হৃদয়ের যত কথা আছে,
তার বুকে কান পেতে শুনে নাও জন্ম অথবা পুনর্জন্মের কথা
প্রাণ ভরে উপভোগ করো পৃথিবীর মায়া, মোহ, ভ্রম; বিব্ভ্রম, অধ্যাস, অলিকতা!
নেশা
তাহার চেনা মুখ, কন্ঠস্বর, তাহার চুল, চেনা ঘ্রাণ,
আমাকে চিরকালের জন্য নেশায় বুঁদ করে রাখলো!
কত পাখি আর খুঁজে পেলোনা তার হারিয়ে যাওয়া নীড়
কত পথিক পথ হারিয়ে পায় শুধু জিরোবার ছাঁয়া সুনিবিড়,
তার পরিসংখ্যান শরতের সুখী আকাশ রাখেনি কখনো।
পূর্ণতা
আমি চাই আমাকে কেউ পাগলের মত ভালোবাসুক।
আমি চাই আমাকে কেউ তৃষ্ণার ব্যাকুলতায় স্পর্শ করুক।
কেউ অনুভব করুক রক্তের প্রতিটি কনায়।
কেউ মনে রাখুক ভাষ্করের নিপূন ছাঁয়ায়।
আমি চাই আমার জন্য কেউ ডুবে থাকুক অলীকের গভীর মায়ায়।
আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করুক হৃদয়ের খোলা জানালায়।
কারো হাতে গোলাপ শুকায়ে মরুক ভিষণ মৃত্যুর যন্ত্রনায়।
আমি চাই আমার জন্য কেউ গভীর শুন্যতা অনুভব করুক।
আমি চাই আমার জন্য কেউ লাগাতার বিনিদ্র রাত কাটাক।
আমার জন্য কেউ বাম বুকে তীব্র কষ্ট অনুভব করুক।
বিরহের যন্ত্রনায় কেউ নীল হয়ে থাক।
আমি চাই আমাকে কেউ ভালোবেসে ভুলে থাকার চেষ্টা করুক,
যেন আমরা একে অপরকে অনুভব করি নাই কোনদিন,
যেন আমরা অন্য কোন সময়ের ভিন্য কোন মানুষ।
হৃদয়ের তরে হৃদয় জঙ্গম ও স্থবির, থেমে যাক রক্তের নিয়মিত চলাচল
ভালোবাসার মুহুর্ত গুলোকে কেউ মনে করুক জীবনের অন্যতম ভুল।
শুধু অল্প সময়ের জন্য কেউ আমাকে ভালোবাসুক
তার পর দীর্ঘ্য জীবনের বিনময়ে সে আমাকে বিন্দু বিন্দু করে ভুলে যাক।
কে?
কেউ কি আমার জন্যে অপেক্ষা করে আছে?
নিপূনে গোপন রেখেছে অন্তরের নিগুড় কথা?
স্বযতনে আগলে রেখেছে কুন্তলে কস্তুরী সুবাস?
প্রসবের যন্ত্রণার মত প্রেম এসেছে হৃদয়ের মরমে
জলধনুর চক্র ভেদ করে উড়ে গেছে পানকৌড়ি
গুধূলির অস্তরাগ আয়োজন করেছে চিত্রা রাত
দীপ্তিময় আকাশগঙ্গায় কুয়াশিয়া পদ্মরাগ মনি
আঁচলের খুঁট খুলে চিঠি মেলে দাঁড়াবে কে এখুনি!
কেউ কি আমার জন্যে অপেক্ষা করে আছে?
ও কার ছাঁয়া?
চেনা চেনা মনে হয়!
ও কার ছাঁয়ার প্রতিচ্ছায়া?
ও কার পায়ের শব্দ!
ও কার নূপুরের ছন্দ!
ঢেউ তুলে হেঁটে যায় কে মায়া বনে?
কি খেলা সারা বেলা চলেছে মনে মনে!
কোন আলো মুছে নিলো তারে,
কোন সেই আলেয়ার আলো?
কোন ভুলে সে এই পথে হেঁটে গেলো!
প্রতিক্ষণে মায়ার প্রহেলিকা।
সে আমার ভ্রান্তির জগৎ
সে আমার প্রথম প্রেম
আমার প্রথম নারী,
সে আমার মেঘ বালিকা।
“ব্যার্থ সমঝোতা”
এত কবিতা, এত ফুল, এত পাখী, এত গান,
এত রঙ, এত ঘ্রাণ, এত সুন্দরের আয়োজনে
তোমার জীবনে শুধু একবার প্রেম আসে,
বর্নীল স্বপ্ন এসে তোমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়
তোমাকে ঝড়ের মত উড়িয়ে নিয়ে যায়
ঝড়ের মত তোমাকে তসনস করে দিয়ে যায়
তোমাকে কাঁচের মতো চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে যায়।
নি:শব্দের মতো নির্মম ভাবে হত্যা করে যায় তোমাকে কেউ।
তার পর থেকে তুমি ধ্বংসের স্তূপ,
শীতল অন্ধকারে তুমি এক গহীন মৃত্যুর কূপ
বিবর্ণ স্বপ্নের আস্তাকুড়ে তুমি একটি জীবন্ত লাশ।
অতপর,…………
এত কবিতা, এত ফুল, এত পাখী, এত গান,
এত রঙ, এত ঘ্রাণ, এত সুন্দরের আয়োজন
বার বার তোমাকে সেই মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়।
আমি দু:ক্ষিত, তোমাকে স্বচেতন ভাবে হত্যা করেছে কেউ,
তার পরও তুমি জীবনের সাথে সমঝোতা করে বেঁচে আছ!
আমি দু:ক্ষিত, ভালোবেসে সফল হওনি তুমি।
কুম কুম অঙ্গে মেখে জোছনা নেমেছে পৃথিবীর পথে পথে,
বেদনার রঙ যেন কন্ঠে তুলেছে অপূর্ব চন্দনা!
চোখে তার ভূমধ্য সাগরের বৃহৎ কোন মুক্তার মতো অহংকারী চাঁদ
ভালোবেসে উন্মাদ যুবকের কথা শোনেনিতো মধ্য রাত,
কুহকী পূর্নিমার ইন্দ্রজাল রচিছে বিচ্ছেদ আর শশানের নিরবতা,
তবে কোথায় জমা রেখে যাবো আমাদের নষ্ট প্রেমের একান্ত স্মৃতি কথা?
কিছু কথা চাঁদের বুকে আচর কেটে কেটে এঁকে গেছে কলঙ্কের আলপনা,
বাকি কথারা জমেছে পাহাড়ের পাঁজরে আর হৃদপিন্ডের মতো মৌন পাথরে!
প্রতিটি সমুদ্র কানায় কানায় ভরে গেছে আমার বেদনার লোনা জলে,
ঝড়ের মতো দীর্ঘ্যশ্বাস যখন সেই সমুদ্রে মাতালের মতো ঢেউ তোলে
একটি চন্দ্রাহত গাঙচিল আশ্রয় খোঁজে ধ্বংসের স্তূপে, ভেঙ্গে পড়া মাশ্তুলে।
অতন্দ্রীলা
অতন্দ্রীলা,
জেনে ভালো লাগলো যে আমাকে তোমার মনে পড়ে কোন কারণে!
যাক, মনে না হউক, শরীরে কোন ক্ষত চিহ্ন রেখেছিলাম!
তাইতো আমার কথা তোমার মনে পড়লো!
সেই সব স্মৃতি আমাকেও খুব যন্ত্রণা দিতো এতকাল।
এখন আর দিচ্ছেনা।
বরং ভালো লাগলো জেনে,
আমাকে তোমার মনে পরেছে এতকাল পরে।
গলায় চুম্বনের চিহ্ন কখনোই দীর্ঘ্যস্থায়ী হয়নি।
সেই সব প্রীয় চিহ্ন গুলো কতনা দ্রুতই মিলিয়ে যেতো!
ওই রকম দুই চারটি বিচ্ছিন্ন বেদনাময় ঘটনা বাদে,
আমাদের সময় কিন্তু খুব রঙিন ছিলো।
অন্তত আমার কাছে তা মনে হয় বা হতো।
হয়তোবা তোমার কাছেও তাই মনে হতো।
এক সময় তুমিও আমার জন্য মরতে পারতে,
এক সময় আমিও তোমার জন্য মরতে পারতাম।
আবার এক জন আর এক জনের জন্য অনন্ত কাল বাঁচতেও পারতাম!
ডায়রীটা আমার কাছেই আছে।
আমি জানি তার কোন অংশই মিথ্যে ছিলনা সেই সময়।
সময়ের প্রয়োজনে তোমাকে সব অস্বীকার করতে হয়েছে তা আমি জানি।
তার পরে হয়তো আমাকে ভুলে যাবার জন্যই অপ্রীয় সময় গুলোর কথা তুমি মনে রেখেছ।
হয়তো তোমাকে নির্দোষ ভাবলে আর আমাকে দোষী ভাবলে ভুলে থাকাটা অনেক সহজ হয়।
হয়তো তাই শুধু আমার ক্ষেপে যাওয়া মুখশ্রী আর অপ্রীয় ঘটনা গুলোই মনে রেখেছ।
হয় তো কিছুই মনে রাখনি, আবার হয় তো সবই মনে আছে তোমার।
অতীত আমার জীবনেরই অংশ,
ভুলে গেলে সেই সময়টাতে আমার অস্তিত্বকে ভুলে যেতে হবে।
আমি আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মনে রাখার চেষ্টা করি।
বিশেষ করে প্রীয় মুহূর্ত গুলো আমি কখনোই ভুলিনা।
তোমাকে আমার মনে আছে। খুব মনে আছে।
তোমার আমার সময় গুলো সব মনে আছে। খুব মনে আছে।
যেই সময় গুলো একসাথে কাটিয়েছি
আর যেই সব সময় গুলো একসাথে কাটানোর কথা ছিলো। সব মনে আছে।
আমি সেই সব সময়ের উপর দিয়ে হেটে যায় প্রতিদিন।
আমি স্বীকার করে নিয়েছি, তোমাকে আমার মনে আছে।
আমি স্বীকার করে নিয়েছি, তোমাকে আমার মনে থাকবে।
স্বীকার করে নাও আমার অস্তিত্ব যদি অস্বীকার করতে সত্যি কষ্ট হয়।
একদিন হয়তো তুমিও নিজের কাছে পরাজিত হবে।
তখন এই চিঠির প্রতিটি “হয়তো” শব্দ মুছে যাবে।
তোমার শরীরের এই অপ্রীয় ক্ষতই হয়তো অনেক বেশী প্রীয় হয়ে উঠবে।
আমার কবিতারা তোমার সাথে কথা কবে প্রতিদিন।
তুমি জেনে নিও আমি কেমন আছি।
ভালো থাকো।
এই আমি।
“ধ্বংস”
নেশার তীব্রতার মত্ত উল্লাসে প্রেম
স্রোতের মত চোখ বেঁধে ভাসিয়ে নিয়ে যায়,
স্রোতের মত নদী থেকে নদী বদলায়
বানের মত জমি থেকে জমি বদলায়
ঢলের মত অতর্কিতে দখল করে নেয় সব,
আবার আচমকা বেদখল হয়ে যায়,
খামচে ধরে নদী, খামচে ধরে মাটি
ছিড়ে আসে চিন্তার স্নায়ু, শিরা উপশিরা,
ছিড়ে আসে বাম অলিন্দ নাল তীক্ষ্ণ নখের ডগায়
পাঁজরের হাড়ে প্রণয়ের দাগ! দগদগে ঘা,
এ বুকে ভাঙ্গন ধরে যায়,….
এ বুকে ভাঙ্গন ধরে যায়,…
কত উপলব্ধি, ধাবন, উপধাবন!
অন্ধকারে ছাঁয়া বুনে তব তপস্যার মায়াবন,
কোনো সমুদ্রের জন্ম হলো কি ধূসর সৈকতে?
কোথায় চলেছে পলি স্রোতের সাথে বানে ভেসে ভেসে?
কোথায় জমে উঠেছে তিলে তিলে ব্যথার প্রকান্ড পাহাড়?
ধ্বংসের প্রয়োজনে লাভার মত রক্ত পুষেছে হৃদয় তাহার,
বিস্তীর্ণ মেঘের মালভূমি ভেদ করে ছুয়ে দিলাম পৃথিবীর ছাঁদ,
তার উপর পা রেখে দেখে এলাম দুপাশে দুটি ঝুলন্ত চাঁদ!
ওই পাহাড়ের পেছনে কোথাও কি ভেঙ্গে পরেছে আকাশ?
কথা বলছ না কেন প্রিয়তমা?
কেন এতো তপ্ত হয় ব্যথিতের দীর্ঘশ্বাস?
পুরে পুরে ছাই হয়ে গেছে সব সবুজ গুল্ম, ঘাস!
তুমি হও না কেন অঙ্গার?
পৃথিবীর সব বনে দাউদাউ করে জ্বলছে দাবানল
টগবগ করে ফুটছে একসাথে পৃথিবীর সব জল,
পাখিদের ডানায় আগুন ধরে গেছে হৃদয়ের উত্তাপে
পৃথিবীর সব গাছ বন্ধা হয়ে গেছে কার অভিশাপে?
টপ টপ করে আকাশ থেকে পরছে দগ্ধ পাখি!
অবুঝ সব দগ্ধ পাখির দল!
সূর্য মাটিতে নেমে এসে বলছে প্রেমিক একটু ধীরে চল।
আমি নিশি পাওয়া মানুষের মত ধীরে চলি,
আমি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাই,
আমি চিত্কার করে ধ্বংসের কথা বলি,
আমি তাহার ধ্বংসে সুখ পাই।
আমি ধ্বংসের সুর কন্ঠে তোলা বেদুঈন যাযাবর,
ধ্বংস! ধ্বংস! ধ্বংস হয়না কেনো এত অসহ্য সুন্দর?
“তোমার ভিতরে আমি”
ঠোঁটে গোলাপ নিয়ে উড়ে গেছে কালো পাখি
তোমার ভিতরে বিলীন হতে দেখেছি পৃথিবী,
তোমার ভিতরে সময় আর সমুদ্র এক সাথে
তোমার ভিতরে মেঘেরা উড়েছে দল বেঁধে।
বৃষ্টির প্রতিক্ষায় থাকা চৈত্রের চিড় ধরা জমি
তোমার ভিতরে বিলীন হতে দেখেছি মগ্ন আমি,
তোমার ভিতরে স্রোত আর জলোচ্ছাস এক সাথে
তোমার ভিতরে মোহময় সৃষ্টি আর ধ্বংস বাসা বাঁধে।
তাড়না নয়, ভ্রান্তি নয়, তীব্র আকাঙ্খার মত চাই
তোমার ভিতরে সৃষ্টি না হয় ধ্বংস হতে চাই,
তোমার ভিতরে জীবন আর মৃত্যু দেখেছি এক সাথে
তোমার প্রতিটি অনুভব আমার নদী ভাঙে চড় বাঁধে।
মেয়েটি দেখছে রোদ
রোদটা হৃদয় ছুই ছুই,
বৃষ্টি নিবে প্রতিশোধ
মেঘটা বলছে তুই তুই।
মেয়েটি দেখছে মেঘ
মেঘটা আকাশ ছুই ছুই,
ঘুড়িটা উড়ছে তবু বেশ
পাখিটা বলছে তুই তুই।
মেয়েটি দেখছে পাখি
পাখিটা দুঃক্ষ ছুই ছুই,
লোনা জলে ডোবে আঁখি
বৃষ্টিটা বলছে তুই তুই।
“ফিরে এসো”
বাতাসের রঙে ভেঁজা বৃষ্টির ঘ্রানে আর কতো কাল?
তোমার নামে সব আকাশ, নদী, পাহাড়, সমুদ্র দেখা শেষ,
চোখে বেদনার ছাপে শুন্যতার দৈর্ঘ্য প্রস্থ ব্যাধ,
তুমি কি দেখনা হৃদয়ের প্রতিবিন্দুতে ব্যথার বর্ণমালা?
তবে কার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নগ্ন লাল গোলাপ!
আমি ভুল ভেবে জ্বলন্ত কয়লায় বাড়াই হাত,
আমি ভুল দেখে তুমি ভেবে জাগি বিনিদ্র রাত,
খোলা আকাশের নিচে বিছানা পাতি,
পরিধান ছেড়ে প্রতিক্ষায় থাকি,
আমার জানালায় বৃদ্ধ ফাগুন অলীক পূর্নিমার
কুয়াশা মশারী টানায় বিন্দু বিন্দু জোছনার।
শিশিরের মতো ঘ্রাণ ফেলে যেও নাকো আর
ঘাসের মতো বিছানা ছেড়ে যেও নাকো আর
ফিরে এসো তুমি এই জীবনের কূপে
তুমি ফিরে এসো এই ঘাস, হৃদয়ে আমার।
এই মাতাল হওয়ার শুভ্রতায় এলো মেলো বেঁচে থাকা
এই তুমি দীপ্তিময় একটি রাগিনীর নাম,
এই তুমি জেনে গেছ নিয়তি আমার,
ধূপ ছাঁয়ার প্রতিচ্ছায়ায় চেনা মৃত্তিকার ঘ্রাণে
অমোঘ নিয়তী আমার তোমার কাছে টানে।
আমিও জেনে গেছি প্রতি ভোরে একটি গোলাপ জেগে ওঠে
আমার ঘ্রানের খোঁজে হাঁটে তোমার ঠোঁটে ঠোঁটে।
বিসৃত বেদনার নীল জলে ডুবো নাকো আর
ডাহুকের চঞ্চল চোখে খুঁজো নাকো আর,
তবে ফিরে এসো তুমি এই জীবনের কূপে
তুমি ফিরে এসো এই ঘাস, হৃদয়ে আমার।
তুমি আমি এই পৃথিবীর মুখ দেখিনাই কোন দিন
চোখ ডোবে নাই এই পৃথিবীর মায়া ভ্রান্তির ছলে,
আকাশের নীল ক্ষয়ে ক্ষয়ে ঝরে নাই কোন বৃষ্টির জলে,
না জন্ম, না মৃত্যু, না হৃদয়, না হৃদয়ের প্রতিশোধ
না সমুদ্র, না মাটি, না জীবন, না জীবনের বোধ,
গায়ে মাখি নাই এই ভ্রান্তির আলো হাওয়া রোদ।
আমরা শুন্যতায় ডুবে থাকা অসীম তখন
আমরা নক্ষত্রের ভাসমান আলোর মতন,
শুধু ফিনফিনে অন্ধকার গায়ে মেখে
কে কার ভিতরে ঢুকে গেছি কখন!
“পথ”
তোমার এক পাশে থাকে শহর,
তোমার অপর পাশে থাকে নারী,
তোমার অপেক্ষায় রাঁধা চূড়া গাছ
চুল বাঁধে, চুল ছারে ফুল বাহারী।
তবে পথিক তুমি কোন পথ লবে?
শহর, নারী না অরণ্য?
তুমি কোন পথে গেলে সুখ পাবে?
তুমি কোন পথে গেলে বেশি ঠকে যাবে?
তুমি জানোনা তুমি কি চাও;
তুমি বিভ্রান্ত, তুমি ইতস্তত;
তুমি যে পথেই যাও
তোমার প্রতিবিম্ব খুঁজে পাও, ক্ষত বিক্ষত।
তোমাকে বাঁধে চুল
তোমাকে কাঁদায় ফুল
তোমাকে বুকে নেয় না তো শহর
তোমাকে কষ্ট দেয় নারী,
তোমাকে ফিরিয়ে দেয় ঘন অরণ্য নহর।
তবে পথিক তুমি কোন পথ লবে?
শহর, নারী না অরণ্য?
ছেড়া নদী মেঘ আর মেঘের শাবক,
কুয়াশার সমুদ্র ভাঙ্গে ধবলীয়া বক,
তার মাঝে মেঠোপথ কাশবন ঘাঁস
ও মেয়ের ওরনা উড়ায় বেহুলা বাতাস।
আলোর মিছিলে বাজিছে যেন মুনিয়ার গান
ময়ুর পালকে রৌদ্র পেতেছে উঠান,
মৃত্যুর ছাঁয়া লয়ে নাচিছে যে শিখা
সবুজ ঘাঁসের ফড়িং চেয়ে ছিলো তারে,
কামিনীর ঘ্রানের মতো সপে দিয়ে বুক
ভালোবেসে মোহময় খুজেছিলো সুখ
সুখ সে তো দ্যূতিময় কোহিনুর হীরা!
আজ সে পাথর প্রসব করেছে এক নদী
ভুল করে তুমি ফেলে এসেছিলে যারে,
তার ছোঁয়ার সবুজ অবারিত ধান খেত!
বুকে নিয়ে নিসর্গের জ্বালাময় দহন
ঘাঁস ফড়িংএর পেলব শান বাঁধা মন।
উদ্ভাসীত আলোক বৃন্তে গেয়ে জীবনের গান
মৃত্যুর পরে যেনো জেগে উঠেছে রক্ত গোলাপ ,
পাখীদের ডানার ছাঁয়ায় জিরাবার ক্ষণে
হৃদয়ের শুকনো ক্ষত চিহ্ন যেন বকেছে প্রলাপ।
“ফিরিয়ে নাও”
ফিরিয়ে নাও এই বিচ্ছেদ আহ্বান।
ফিরিয়ে নাও এই বিচ্ছিন্ন ব্যাবধান।
জুড়ে দাও এই হৃদয়ের বিক্ষিপ্ত ব্যাবচ্ছেদ।
বলোনা নিরত্যয় ভালোবাসা আর নেই বুকে।
শুননি কি তুমি অতীতের পোড়খাওয়া সব হৃদয়ের ক্রন্দন?
সুখে নেই তারা কেউ হায়, অতৃপ্ত অশরীরী আত্মার মতন
উচ্ছল সব মানুষের ভীড়ে, তারা সবে মৃত মানুষের লাশ নিয়ে ঘোরে!
চায়ের কাপে উড়ছে ধুঁয়া মেঘের মতন
মুখোমুখি বসিবার অফুরান সময়,
আমাদের কথা সব শেষ হয়ে গেছে
বরফের মত জমে গেছে আমাদের বর্তমান ,
বায়স্কোপের মতো চোখে অবিশ্বাস্য অতীত!
সময়ের বিপরীতে হেটে যাই বহুটা দূর,
যেখানে আমাদের দেখা হয় নাই কোন দিন।
যেখানে আমরা ভালোবাসি নাই কোন দিন।
অথবা ভালোবেসেছিলাম তোমায় অফুরান
তিতল বুকে নিয়ে তীব্র বকুলের ঘ্রাণ
কঙ্কনীর মতো কাঁচের চুড়ি করে গুঞ্জরণ
সেই হাতে হাত রেখে কোল শিথানেই
বরফের মতো জমে যাই আমি সেখানেই।
“দুঃক্ষ বিলাস”
বয়ে যাচ্ছে দুঃক্ষ ধারা
দুঃক্ষ বাগান, দুঃক্ষ চাঁড়া।
বিরহ রাত্রির হৃদয় ছুঁয়েছে সে আমার
শুকনো রক্তের মত গোলাপ পাপড়িতে,
হাহাকারময় পাখিদের বিলাপে মিশে যেতে যেতে
মরুময় তপ্ত বালুর মত তীব্র উষ্ণতায় রাখা তার নাম
সে আমার পদ্মাবতী নারী, গোপনে তাহার নাম রেখেছিলাম
সে আমার অসহ্য যন্ত্রণার মত রক্তের তপ্ত স্রোতী
ফাল্গু নদীর নিদাঘ জলের মত সে আমার অমরাবতী
বিধুনন বিধুর বুকে সে আমার আগনন যাতনার কাম
অপূর্ব মোহময় কবিতার মত দ্রোহী যার নাম
দেয়াশিনী নিকরুণ সেই জন, আমায় সে করেনি আপন।
সয়ে যাচ্ছি দুঃক্ষ ধারা, দুঃক্ষ বাগান, দুঃক্ষ চাঁড়া।
হৃদয় ছিড়েছে সে আমার বিরহের রেবতী রাত্রিতে
শুকনো রক্তের মত ঝরে পরা বেদনার গোলাপ পাপড়িতে।
“বলিদান”
আমরা একে অপরকে অন্ধের মত দেখি
আমরা সমান্তরাল রেখার মত দাড়াই মুখোমুখী
আমরা একে অপরকে ছুঁয়ে দেখি না কখনো কোন দিন
শুধু জানি প্রিয় মানুষের ঘ্রাণ খুব কাছে
তীব্র উপস্থিতি করে অনুভব হৃদয়ের খুব মাঝে
আমরা বহুবার বন্ধুর মত মুখোমুখি বসি,
আমরা হুশিয়ার; কিছুটা দুরুত্ব ভালবাসি
আমরা প্রাণ খুলে শিশুর মত অনাবিল হাসি
আমরা প্রাণ খুলে পৃথিবীর সব কথা বলি
তবু আমরা নিজেদের কথা বলিনা কখনো
তবু আমরা চোখে চোখ রাখিনা কখনো
চোখে ভাসে শুধু আমাদের পিছুটান শৃঙ্খল
আমরা দুজনের দিকে শুধু চোরা চোখে তাকাই
আমরা বরাবরের মত আমাদের প্রেম অস্বীকার করে যাই
এভাবেই আমরা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে ঠকাই।
“দেখা”
বহু দিন পরে
যদি হঠাৎ করে
কখনও আবার দেখা হয়-
তবে আমার দিকে
ঘৃণা ভরা চোখে তাকিও,
অভিযোগ ভরা চোখে তাকিও,
অথবা করুনার চোখে,
শুধু অপরিচিতা চোখে নয়।
“ভিন্ন সময়”
তোমার আমার সময় গুলো
সব ভিন্ন সব আলাদা,
তোমার আমার দিন রাত্রি
সব বিবর্ণ সবটা সাদা।
আমার দেখা ফুল গুলো সব
গন্ধ ছাড়া বর্ণহীনা,
একটা মুঠো বায়ুর জন্য
শ্বাস ফেটে যায় টাটায় সিনা।
কত জনের সময় কাটে
দিন কেটে যায় রাত কেটে যায়,
আমার থামা সময় গুলো
আর কাটে না অস্থিরতায় ।
কত জনের চোখে স্বপ্ন
বেঁচে থাকার সম্ভাবনা,
আমার চোখে নেশার আছর
প্রথম দেখার ঘোর কাটে না।
যায় না নেশা, ঘোর কাটে না
অস্থিরতায় অস্থিরতায়,
আমার সারা অঙ্গ গেলো
তোমার দুইডা মিছা কথায়।
আর সহেনা, আর পারিনায়
আমি এইবার ঘুমাইতে চাই,
আমার এখন বেজায় সময়
তোমার একটু সময় কি নাই?
যদি ভুলে যাই তোমাকে আমি
যে কোনো মৃত্যুর মতো সুখে,
প্রেমিকার ঘ্রাণে আর ফোটেনা গোলাপ কোনো পুরুষের বুকে,
কোনো ঢেউ করেনি শব্দ আর সমুদ্র সৈকতে,
শত প্রেমিকের লাশে আবাদ পরিত্যাক্ত বধ্যভূমি,
পরিচিত মুখ আর তাতে খুঁজো নাকো তুমি।
মুখোশে মখোশ উঠে গেলে আমাদের শব
হাতে নিয়ে দেখো একে একে নগ্ন মাথার খুলী,
বন্ধা চাঁদের মতো হলুদ বিবর্ণতা পৃথিবীর প্রতিটি ঘাঁসে
চোঁখের আবিষ্ট প্রেম সব মৃত্তিকায় মিশিয়াছে,
কাকে খুঁজে নিবে তুমি ইহাদের মাঝে?
কোন কোটরের গভীর শূন্যতায় তোমার নামে মৃত্যু লিখা আছে!
ইশ্বর মুছে নিয়ে গেছে করোটির চুম্বন চিহ্ন, বুকে চিবুকের ছোঁয়া।
“আলেয়া”
তুমি চেয়েছ এতকাল নির্মম
মর্মর পাথরের মতো প্রাণহীন বুক,
হৃদয়ের জমিনে অবারিত ঘাঁসের পরিত্যাক্ত বিছানা
তিলে তিলে গড়ে উঠুক; এক উন্মুক্ত গভীর ধংস স্তূপ।
মাকরাসার জাল, পায়রার নীড় পথ ভোলাবে তোমার
আমি জেনে গেছি নারীর কেতন সব, ঋষির ধ্যানের সার।
ভালবাসা হীন পৃথিবীতে নিছক লাল গোলাপের দাম কতো আর!
প্রেমিকের চোঁখ ছাড়া কার, রূপের আলেয়া কে কবে করেছে শিকার!
কাছে পাবার আগে খুঁজে নাও তারে; ভালবাসার আগে বুঝে নাও তারে,
সোনালী ধানের গোলায় লুটেরার দল, দুহাতে তারাও চোঁখে নীলনদের জল।
যাচ্ছ চলে যারা যাও, পেছেন ফিরে তাকিওনা আর,
চোঁখে চোঁখ পরে গেলে হায়, প্রেম হয়ে যেতে ও পারে আবার!
“আয়না ঘর”
খুব বেশী দুরে নই আমি
শুধু স্বীকার করে নাও আমি আছি,
কাছে নয় তবু হৃদয়ের খুব কাছা কাছি;
যদি স্বীকার করে থাকো অস্তিত্বের অনুরনে,
জেনে গেছে তোমার শিঁরদাঁড়ার শীতল স্রোত এতক্ষণে,
মিশে গেছি তোমার উদভ্রান্ত ধুসর দৃষ্টির অনুভবে কবে
চোঁখ ফেলে দেখো কাঁচের কুয়ায়, সোনালী সব আলো খুঁজে পাবে!
আয়না ঘরে নিজের ছায়ায় কার প্রতিবিম্ব খুঁজেছ এতো কাল?
প্রতিটি পৃথক শিখায় নক্ষত্র নক্ষত্রীর বুকে কেদেঁছে তার আলো
কে তার তৃষ্ণা মিটালো! যতটা আবেদন জমে ছিলো তোমার উষ্ণ ঠোঁটে,
তার চেয়ে বেশি ব্যাথায় মিশে আছি আমি, ছুঁয়ে দেখো বৃষ্টিতে,
তোমার শরীরে ঢুকে যাবো শিহরণ, জাগিয়ে সমুদ্রের ঢেউ
ব্যাথাকে বুকে নিয়ে, ব্যাথার সাথে শুয়ে শান্তি পেয়েছে কি কেউ?
কিতাব লিখেছে সভ্যতার নিয়াম কথা, পাথরের সওদাগরী শহর
কে কাকে ভালোবেসে ভুলে গেছে কবে , শুধু জ্ঞানী বৃক্ষ রেখেছে তার খবর।
“গাংচিল”
দুটি জল ছিল পাশাপাশি বহু দিন
যদিও মিশে যায়নি তারা একে অপরের সাথে
শুধু নিবিড় ভাবে ছুঁয়ে ছুঁয়ে অনেকটা পথ ,
দূর হতে মনে হতো এক খানা নদী;
জেনো আজন্ম পাশাপাশি থাকিবার শপথ !
কতো গভীর ছিলো সে নদীর জল!
কতো স্রোত বয়ে নিয়ে অজানা অতল,
কতো কুল ভেঙ্গে গড়ে একে অপরের প্রিয় ক্ষত
পরস্পরকে দিয়েছে ঐশ্বর্য্য; নরম পলি মাটির মতো !
কথা ছিলো তাহার, মিশে যাবার; কোনো এক মোহনায়
জানা নেই কি ছিলো কাহারো মনের একান্ত বাসনায়,
কোন এক রঙ্গা জল ধূসর গাংচিল হয়ে
ছেড়ে যায় কেনো নদী এক আকাশ উড়ালে?
জেনো কোনো কথা নেই আর,
জেনো কোনো কথা ছিলনা তাহাদের কোনো কালে!
প্রসস্ত ডানা মেলে আর না ফেরার ব্রতে,
ভুলে যাবার যার যার একান্ত পথে
ছাড়া ছাড়ি বহুদূর কেনো সেই মোহনায় এসে?
জেনেছি আমি সব অবশেষে,
অতন্দ্রিলা তোমাকে ভালোবেসে।
বুকের ভিতরে চোরা কাঁটা বিঁধে আছে
চোখ হারিয়ে গেছে দুরের চাহনিতে ,
তোমার ছোঁয়া তোমার চোখের খোঁজে
বিব্ভ্রান্তির হাজার প্রকার ভেদে,
মনে হয় এইতো তুমি পাশে।
এই পৃথিবীর আলো হাওয়া জল, মেঘেদের দল
মনে পরেছে তোমায়!
এই আকাশ সাগর বেলা, রোঁদ বৃষ্টির খেলা
মনে পরেছে তোমায়!
অযাচিত স্বপ্নের ভ্রূণ ভাবনার সঙ্গমে উর্বর
স্খলিত জীবনের বধ্যভূমি,
সত্ত্বার আঁতুড় ঘরে জন্ম নেয় প্রতিক্ষণ
একটি করে তুমি!
হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে কবর খুঁড়ে
তোমার কথা লুকাই গোপনে দিনের শেষে।
বহু বহু দিনের পর…
আমার হৃদয়ে আজ অজস্র কবর!
আমার শরীরে আজ লাশের গন্ধ!
আমার রক্তে বিষের নীল স্রোত!
তুমি আজ শুধু উষ্ণ ঠোঁটে তিব্র চুম্বনের আমৃত্যু তৃষ্ণা,
মেরুদণ্ড বেয়ে বেথার জোয়ার ভাঁটা বেলা অবেলায়,
বেওয়ারিশ বিছানায় ক্লান্তি জমা রেখে প্রতিটি নির্ঘুম রাতে
অমোঘ নিয়তি তুমি আমার, ভুলে থাকার অহর্নিশ খেলায়।
“অপেক্ষা”
মনে হয় আমি সেই সময় টুকু চিনি
যাকে তোমরা অপেক্ষা বলো,
প্রতিটি মুহূর্ত, পল অনুপল, ক্ষণ অনুক্ষণ,
মনে হতো দীর্ঘ্য দিনের মতন,
যখন সে বলতো-
“অপেক্ষা করো, আমি আসবো”।
এখন তো বছর কেটে যায় চোখের পলকে,
রক্তের উষ্ণতা নিবে গেছে কবে,
আমি কারো জন্য অপেক্ষা করিনা আর,
সে ও কারো জন্যে অপেক্ষা করেনি তো!
সময় বয়ে চলে তবু, বয়স থেমে গেছে কবে,
অনেকটা মৃত্যুর মতো, তবু কেউ মরিনি তো!
“ভুলে গেছি তারে আমি”
ছাই চাঁপা আগুনের মতো
ভুলে গেছি তার নাম কবে!
কখনো মনে পরে না তো সে আর,
মিশে গেছে রক্তের সাথে অজান্তে
কবেকার বাথার রং উষ্ণতা হয়ে,
বেমালুম ভুলে গেছি আমি তারে!
গভীর একাকিত্তে ছায়ার মতো-সে আসে ধীরে,
তছনছ হয়ে যাবার আতঙ্ক ছড়ায় বুকে!
নিঃশ্বাসে বাতাসের স্বল্পতা অনুভব করি,
চোখ বুজে তার চোখ দেখি নাতো আর,
চেতনার অতলে সূক্ষ্ম যন্ত্রণার মতো অনুভব,
পোষ মানা পুরনো অসুখের মতো,
আলাদা কিছু নয়, শরীরেরই অংশ মনে হয়!
যেন কিছু ছিল, যেন কিছু নেই, শূন্যতার বোধ।
যেন প্রিয় কোন মানুষের মৃত্যু শোক,
মনে পরার মতো কিছু নয়, জীবনেরই অংশ মনে হয়।
“দূরত্ব”
স্বপ্ন কি সত্যি হল আজ অথবা স্বপ্নই সত্যের মতো,
যদি এ স্বপ্ন হয় তবুঃ ঘোর না কাটুক, ঘোর না কাটুক।
এতো কাছে আছো মনে হয়,
হাত বারালেই ছুঁয়ে দিতে পারি!
জলের ছবির মতো স্বপ্ন যদি হয়?
ছুঁই না ছুঁই না ছুঁই স্বপ্ন ভাঙ্গার ভয়।
রাতের তিমির দেখি হায়, রহস্যময় জানালায়,
বিশাখা নক্ষত্র বিথির জন্মতিথি চূলের বিন্যাসে,
তোমার চোখের মতো চোখ বনফুল,কুসুম শঙ্কাশে।
তোমার নরম হাতের মতো মেঘ ছুঁয়ে দেয় শিহরণ,
দূর হতে আরো দূরে ব্যাথাময় বাঁশীর রাগিণীর মতন
বুকের গভীর থেকে গভীরে বাজো কি করুন সূরে!
কতো কাছে আছো তুমি হায়, তবু কতো দূরে!
“স্বর্ণ লতা”
আমার মায়াবী অতীতে তোমার সাথে পথ চলা,
তোমার জন্য গাওয়া গান, অকারণ অভিমান,
ছোট ছোট কথা বুনে গল্প, গাঁথে ছন্দ কবিতা,
তোমার গন্ধে পৃথিবী সাজে সৌরভি মৌমিতা!
আমার আকুতী আহ্ববান আমার বুকে
হৃদয় মেতেছে হৃদয়ের গন্ধ শুঁকে শুঁকে।
কান পেতে থাকে সোনালী ঘাসেরা
তাঁরারা চাঁদের, চাঁদোয়া রাতেরা।
যখন তোমার সাথে ছিলো আমার অভিষার,
শিশির ভেজা পৌষের রাতে ক্লান্তিহীন এক পথ!
তুমি ছিলে আমার দ্রোপদী, আমি তোমার জয়দ্রথ।
আমার আঙ্গুলির ভিতরে রেখে তোমার আঙ্গুলি ভীষণ জড়তায়,
জীবনের সাথে মায়াবী সোনালী লতারা যেভাবে জড়ায়,
ঠিক সেই ভাবে। ভাবিনিতো কোনদিন তুমি চলে যাবে।
মায়াবী রথে কেন উঠলে দেবী?
[জুন ২০০৫, ঢাকা , বাংলাদেশ]
“ইন্দ্রজাল”
কোন এক নিষিদ্ধ রাত
রাত্রির কুয়াশা মাখা অন্ধকার
আমার পাশে একজন মায়াবী
তার হাতের মুঠোয় পেষিত আমার হাত।
জল স্থল অন্তরীক্ষের সকল বাস্তবতা
হারিয়ে যাচ্ছে রহস্যময় কুহেলিকায়!
আমার চোখ খেলা করে তার চোখে,
পদ্মার স্রোতে গলন্ত রুপা!
মাকরাশা অদ্ভুত দ্রুততায় বুনে চলে তার জাল,
প্রতিটা খোপে খোপে জ্বালাময়ী ভালবাসা।
হঠাৎ হানা দেয় দমকা হাওয়া,
মুহূর্তেই ছিন্ন ভিন্ন সব,
কোথায় ঊরে যায় কুয়াশার চাঁদর…
এক স্বপ্নহীন অনশ্তিত্তের অন্তহীন ঘুম।
রাত্রির কোন প্রহর ঘোষণা করছে শেয়ালের পাল?
চাঁদের মুখে ডানা মেলে ঊরে যায় বাদুর।
“পরাজিত নটরাজ”
একটি শিউলি ফুলের নির্বাসিত আত্মার দীর্ঘশ্বাসে যখন বাতাস হয়েছিলো ভারি,
একটি শিশিরের আছড়ে পড়া ব্যাকুলতায় আমার ঘুম ভেঙ্গে ছিল ভোঁরে।
এ যেন ইস্রাফিলের সহস্র বাঁশির একত্র ক্রন্দন!
অলীক স্বর্গলোকে প্রেমময় ফুলশয্যা শেষে ছুরে ফেলা এক রাশ সাদা ফুলে
যখন একবুক জমাট রক্ত দেখেছিলাম, আমি ভীষণ চমকে উঠেছিলাম!
শুনেছি সে ছিল কোন এক কুমারী ফুলের দেশে, বাতাসের সাথে হেসে হেসে।
মেঘেরা হাসতো, বৃষ্টি আসতো, ভাসতো সে পরীদের সাথে ভেজা নীলে।
তবে বুঝি বৃষ্টি আমায় তুমি এতকাল মিথ্যে বলে ছিলে?
তবে বুঝি পাখি আমায় তুমি এতকাল মিথ্যে বলে ছিলে?
কেন হায় দেবদূত তারে নিয়ে গিয়েছিলে অলীক সপ্নের দেশে,
ভালবাসার কথা বলে বলে, বাষ্প চূর্ণ মেঘ বৃষ্টির ছলে।
দিয়েছিলে তারে রাসের বাধন, সোনার কাঁকন, পায়ের নুপুর,
দিয়েছ আমার চোখে নির্ঘুম রাত, থেমে যাওয়া সময়, প্রসন্ন দুপুর।
দেবতাদের প্রেম উচ্ছিষ্ট হলেই কি তবে মর্তে পাপীদের ভালোবাসা মেলে?
নিজেই বেছে নিয়েছি এই ধ্বংসলীলার যাত্রাপালায় পরাজিত নটরাজের এক রক্তাত জীবন!
“শুন্যতা”
মনের মাটিতে দীর্ঘ মায়াময় ছায়ামূর্তি
নিরবে চক্ষু তুলে তাকায়!
দীর্ঘ হতে দীর্ঘশ্বাসে তপ্ত হয় হৃদয়-
খোঁজে আকাশের ওপারে আকাশ,
বাতাসে প্রিয় গন্ধ, খোঁজে স্পর্শ, শিহরণ।
নিবিড় মেঘের দল খোঁজে কোলাহল।
খুঁজে পায় শুন্যতা, পাণ্ডুর, বিবর্ণতা ।
হঠাৎ খামচে ধরে
ছিরেফেলতে ইচ্ছে করে
হৃদয় আমার!
মায়াবি স্বপ্নের আঘাত প্রতিক্ষন।
[জুলাই, ২০০২, ঢাকা, বাংলাদেশ। ]
মনে আছে অতন্দ্রীলা?
মনে আছে তোমার?
তুমি ছিলে পাশে, খুব কাছে,
নিমগ্ন সন্ধে বেলায়
গভীর রাতের উত্তাল সাগরে
ধুসর আলোর প্রসস্ত সমুদ্র সৈকতে।
মনে আছে তোমার?
কোথা হতে ভেসে এলো হিজলের ফুল!
ঝাউএর ডালে ব্যাকুল স্বরে
ডাকলো অচেনা হলুদ পাখি!
মেঘ আর মেঘলা আকাশের সাথে
পাল্লা দিয়ে এলো জল আর জলোচ্ছ্বাস!
অতন্দ্রীলা,তুমি ছিলে আমার
চাঁপা গন্ধে মাতাল চিরচেনা ফুল।
স্বপ্নের ফুলঝুড়ি, সূতাহীন ঘুড়ি
ব্যাথার টানে আঁকা ব্যথিত ব্যাকুল।
আর সেই তুমি অতন্দ্রীলা,
সন্ধে বেলা-
হয়েছিলো কি
ভুলে গেছো তুমি।
কথাটি নাবলে, ডুবে গেছ জলে,
ঘোলাটে বুনো চাঁদের মতো।
ভেসে গেছো বানে, হৃদয়ের টানে
রেখে আমার হৃদয়ে ক্ষত।
“স্বন ভাঙ্গার খেলা”
ভাঙ্গা জানালা গলা রোদ্দুরে স্বপ্ন ভাঙ্গার খেলা- এবেলা ওবেলা,
দক্ষিনা বায়ুর তপ্তশাসে সারাদিন, সাত রঙ করে খেলা।
প্রতিটি নিদ্রা ভাঙ্গে কঠিন চৈত্রের মতো, অতর্কিতে ছাওয়া,
চোখে আমার শিশির ভেজা ভোরের অপূর্ণ শীতল চাওয়া।
এখনো কি কোনো খোলা জানালায় বেকুল চাহুনিতে
অস্থির তরুনীর ঠোট কাঁপে আমার অভিমানে?
দুপুর গেলো, বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হলো বলে
বিভোর নিশ্সংগতা তারে আরো একটু কাছে টানে?
“অপরিচিতা”
ভীষণ চেনা রাত্রিগুলুও মাঝে মাঝে ভীষণ অপরিচিত লাগে।
অন্ধকারে পেঁচার চিত্কারে আমি প্রিয়ার কান্না শুনতে পাই।
ভর দূপুরটাকেও মাঝে মাঝে অচেনা লাগে ভীষণ!
ঘূঘুর একঘেয়ে ডাকে আমি তোমার বিচ্ছেদের ডাক শুনি।
তুমি কি একবারও ভেবে দেখনি-
আমার বুক ছাড়া পৃথিবীর সব পুরুষের বুকে এসিডের খনি!
একটুখানি মুখ ছোয়ালেই ঝলসে যাবে তুমি!
আমি অনুভব করেছিলাম,
লাল পলাশের মত আগুনের ফুলকি তোমাকে
হাতছানি দিয়েছিল বিচ্ছেদের দিনে।
সেদিন তোমাকেও লেগেছিল ভীষণ অপরিচিতা এক!
প্রজাপতির মতো বিলাসী ডানা মেলে
উড়ে চলে গেলে আগুনের ফোয়ারায়,
ওফ কি ভীষণ সুন্দর লেগেছিলো সেদিন তোমায়!
আমি আজও ভুলতে পারিনা কিছুতেই।
“বাচিবার সাধ ”
এক মুঠো জোছনা ঢেলে
বিষের পেয়ালা সাঁজাই
তাঁরাদের জলসা হবে বলে
ঘোর নিশার নিকুঞ্জে আজি !
মৃত হৃদপিণ্ডের সঞ্চিত খুনে
ভালোবাসা আমার দাগ গুনে গুনে
নীল খরস্রতা নদী যৌবন ধরেছে বাজী!
আমার নিথর দেহে দূর্বার তাঁরাখশা আমৃত্যু মহারথী।
নিষিদ্ধ বুনোফুলের গন্ধে মাতাল
জোনাকিরা সব যৌবন করেছে সঞ্চার,
আধোয়ার নীলাম্বরী রাতে মরিবার সাধ হইয়াছে বারবার।
মরিনি আমি, অমৃত জোছনা পানে!
তোমার চূলের ঘন্ধ আজো বাঁচিবার সাধ আনে ।
““কারাদণ্ড”
আমি কার সাথে শুই,কার সাথে ঘুমাই,
পুরনো বেথার কাছে ফিরে আসি, ফিরে যাই।
মুক্তি চেয়েছো তুমি আর মুক্ত করেছো আমায়,
সেই আমি জানিনা আজো আমার মুক্তি কোথায়!
শুন্যতার শেওলা ভেঁজা স্মৃতির দেয়াল চারিপাশে-
প্রতিটি মুহূর্তে যাবজ্জিবন কারাদণ্ডের স্বাদ…”
এসো প্রিয়া
হৃদয়ের গহিনে বসে কিছু গল্প করি
শীতের এই কুয়াশা ভরা রাতে।
রক্তের তপ্ত স্রোতের পাশে
স্তূপাকারে কাটা রেশমের গাঁদায়,
যেখানে আমার মায়াবী কথাগুলো শুধু আমারেই কাঁদায় ।
সেই ভেবেই কি তুমি “পলাতকা” নারী?
দখিনা স্রোতে ভেসে যায় পূর্নিমার চাঁদ।
রোদের সোনালী চুল মেলে ঢেকে দেয় চোখ,
বহুকালের শুকনো হৃদয় তখন এক টুকরো নীল্ মেঘ চায়।
বহু অবজ্ঞা অবহেলার পরে,
যখন দেখবে আমার ক্ষত বিক্ষত লাশ ধংসের প্রমত্ত মেলায়,
এবং ছিন্ন ভিন্ন রুপালী চাঁদখানি পড়ে আছে আমার রক্ত নদীর পারে,
জোছনা বৃষ্টির প্রতিক্ষায় থেকে থেকে যেদিন পৃথিবী হবে নিরব।
কোনো এক হেমন্তের কাঙ্গাল রাতে আমারে তুমি করিবে অনুভব।।